শাটডাউন ও সাম্প্রতিক উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথে পণ্য পরিবহনে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। দেশটির ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ৪০টি প্রধান বিমানবন্দরে ফ্লাইট সক্ষমতা ১০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছে। ফলে ছুটির মৌসুমের আগে আকাশপথে কার্গো পরিবহনে বিদ্যমান চাপ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর এপি।
পার্সেল ডেলিভারি সংস্থা ফেডএক্সের বড় বিতরণ কেন্দ্র রয়েছে ইন্ডিয়ানাপলিস ও টেনেসির মেমফিসে। কেনটাকির লুইসভিলে আছে ইউপিএসের কেন্দ্র। এ তিন অঞ্চলের বিমানবন্দরই ফ্লাইট কমানোর আওতায় পড়েছে।
ইউপিএসের প্রধান কার্গো হাব ওয়ার্ল্ডপোর্ট লুইসভিলে অবস্থিত। গত সপ্তাহে সেখানে একটি কার্গো প্লেন দুর্ঘটনায় তিন পাইলটসহ ১৪ জন নিহত হন। দুর্ঘটনার পর সতর্কতা হিসেবে ইউপিএস ও ফেডএক্স সাময়িকভাবে নিজেদের ম্যাকডোনেল ডগলাস এমডি-১১ উড়োজাহাজ বহর স্থগিত করে। ইউপিএসের বহরে এ মডেলের হিস্যা প্রায় ৯ শতাংশ ও ফেডএক্সের ৪ শতাংশ।
ফ্লাইট কমানো ও এমডি-১১ বহর স্থগিতের প্রভাব কার্গো পরিবহন ও খুচরা বাজারে একসঙ্গে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন সিরাকিউস ইউনিভার্সিটির সাপ্লাই চেইন বিভাগের অধ্যাপক প্যাট্রিক পেনফিল্ড। একে ‘ওয়ান-টু পাঞ্চ’ বা দ্বিগুণ ধাক্কা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চাহিদা এখন বাড়তি, তার ওপর পরিবহনের সক্ষমতা কমে গেছে। ফলে ছুটির মৌসুমকে কেন্দ্র করে যে চাপ ছিল, সামনে সে চাপ আরো বাড়বে।’
প্যাট্রিক পেনফিল্ডের মতে, এমডি-১১ উড়োজাহাজগুলো চালু হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পার্সেল পাঠানোর চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। তখন সরবরাহে এক-দুই দিনের বিলম্ব দেখা দিতে পারে। তাই কেনাকাটা আগেভাগে শেষ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তবে এখনো আন্তর্জাতিক কার্গো পরিবহন তেমন প্রভাবিত হয়নি। শুধু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট কমানো হয়েছে। এফএএর নির্দেশ অনুযায়ী, সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে প্রতিটি বিমানবন্দরে দৈনিক নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ১০ শতাংশ কমানো হবে। কার্গো পণ্য শুধু মালবাহী উড়োজাহজেই নয়, যাত্রীবাহী উড়োজাহাজেও পরিবাহিত হয়।
ফেডএক্স ও ইউপিএস জানিয়েছে, তাদের অধিকাংশ ফ্লাইট রাতে পরিচালিত হয়, যা বিধিনিষেধের আওতার বাইরে। ওষুধ, চিকিৎসা যন্ত্র ও শিল্প প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনের জন্য বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
ইউপিএসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা নিরাপদ ও স্থিতিশীল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছি এবং গ্রাহকদের নির্ভরযোগ্য সেবা দিতে আত্মবিশ্বাসী।’
বৈশ্বিক ফরওয়ার্ডিং কোম্পানি সিএইচ রবিনসনের প্রেসিডেন্ট মাইক শর্ট বলেন, ‘ফ্লাইট ১০ শতাংশ কমানোয় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পরিবহন খাতে কিছুটা প্রভাব পড়বে। তবে এর সামগ্রিক প্রভাব সীমিত থাকবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাণিজ্যিক ফ্লাইট কমে গেলে স্থানীয় বাজারে সাময়িকভাবে পরিবহন সক্ষমতা কমে যাবে এবং যাত্রার সময় কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। ট্রাক বা দ্রুত স্থলপথ পরিবহন কিছু ঘাটতি পূরণ করতে পারবে।’